প্রকাশ: · পড়তে ~৫ মিনিট
জাপানে কাজের জন্য বাংলাদেশিদের কাছে এখন সবচেয়ে আলোচিত পথ হলো Specified Skilled Worker (SSW), জাপানি ভাষায় 特定技能 (তোকুতেই গিনো)। এই ভিসায় নির্দিষ্ট কিছু খাতে দক্ষ কর্মী হিসেবে জাপানে কাজ করা যায় — জাপানি কর্মীর মতোই বেতনে। নিচে জাপান SSW ভিসার পুরো পথ ধাপে ধাপে, প্রতিটি তথ্যের উৎসসহ।
সংক্ষেপে: জাপানি ভাষার পরীক্ষা (JFT-Basic বা JLPT N4) + নিজের খাতের দক্ষতা পরীক্ষা পাস করলে SSW (i)-এ আবেদন করা যায়। সর্বোচ্চ ৫ বছর থাকা যায়, শুরুতে পরিবার নেওয়া যায় না। বাংলাদেশ থেকে শুধু সরকারি অনুমোদিত এজেন্সি বা BOESL-এর মাধ্যমে যান।
SSW (i) আর SSW (ii) — পার্থক্য কী
- SSW (i): খাতভিত্তিক “যথেষ্ট জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা” লাগে এমন কাজ। মোট সর্বোচ্চ ৫ বছর থাকা যায়। সাধারণত পরিবার (স্বামী/স্ত্রী-সন্তান) সাথে নেওয়া যায় না।
- SSW (ii): আরও উচ্চ দক্ষতার কাজ। মেয়াদ বারবার নবায়ন করা যায় আর শর্ত পূরণ হলে পরিবার নেওয়া যায়। এর জন্য ভাষা পরীক্ষা লাগে না, শুধু উচ্চতর দক্ষতা পরীক্ষা।
বেশিরভাগ বাংলাদেশি শুরু করেন SSW (i) দিয়ে। কয়েক বছর কাজ করে দক্ষতা পরীক্ষা পাস করলে কিছু খাতে SSW (ii)-তে যাওয়া যায়।
কোন কোন খাতে কাজ করা যায়
২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে মোট ১৬টি খাত:
- নার্সিং কেয়ার (介護 — কেয়ারগিভার)
- ভবন পরিচ্ছন্নতা
- শিল্পপণ্য উৎপাদন (কারখানা)
- নির্মাণ
- জাহাজ নির্মাণ ও মেরিন
- গাড়ি মেরামত
- বিমান সংক্রান্ত কাজ
- আবাসন (হোটেল)
- গাড়ি পরিবহন (ড্রাইভার)
- রেলওয়ে
- কৃষি
- মৎস্য
- খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন
- খাদ্য সেবা (রেস্টুরেন্ট)
- বনায়ন
- কাঠ শিল্প
নার্সিং কেয়ার আর ২০২৪-এ যোগ হওয়া চারটি খাত (গাড়ি পরিবহন, রেলওয়ে, বনায়ন, কাঠ শিল্প) শুধু SSW (i)-এ। জাপান সরকার আরও তিনটি খাত — লজিস্টিক গুদাম, রিসাইক্লিং আর লিনেন সাপ্লাই — যোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ২০২৭ থেকে চালু হওয়ার কথা।
যোগ্যতা: কোন কোন পরীক্ষা লাগে
- জাপানি ভাষা পরীক্ষা: JFT-Basic-এ A2 লেভেল (২৫০-এর মধ্যে ২০০ বা বেশি), অথবা JLPT N4 বা তার উপরে।
- খাতের দক্ষতা পরীক্ষা (Skills Test): যে খাতে কাজ করবেন, সেই খাতের পরীক্ষা।
- কেয়ারগিভারদের জন্য বাড়তি: Nursing Care Japanese Language Evaluation Test — কাজের জাপানি ভাষার পরীক্ষা।
যাঁরা জাপানে Technical Intern Training (TITP) সফলভাবে শেষ করেছেন, তাঁরা একই খাতে ভাষা ও দক্ষতা পরীক্ষা ছাড়াই SSW (i)-এ যেতে পারেন।
বাংলাদেশে কোন পরীক্ষা দেওয়া যায়
জাপানের পক্ষে পরীক্ষাগুলো নেয় Prometric (কম্পিউটারে)। Prometric-এর ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের জন্য যে পরীক্ষা আর ফি দেখা যায়:
| পরীক্ষা | ফি (Prometric অনুযায়ী) |
|---|---|
| JFT-Basic (ভাষা) | ৳৩,৮০০ |
| নার্সিং কেয়ার (দক্ষতা/ভাষা) | ৳১,৬০০ |
| কৃষি | ৳২,৭০০ |
| নির্মাণ | ৳৮০০ |
ফি আর পরীক্ষার তালিকা বদলায় — বুক করার আগে prometric-jp.com-এ সর্বশেষ তথ্য দেখে নিন। খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য সেবা আর বনায়নের পরীক্ষা বাংলাদেশে চালুর জন্য সরকার জাপানকে অনুরোধ করেছে (ডেইলি স্টার, নভেম্বর ২০২৫)।
বাংলাদেশ থেকে কীভাবে যাবেন — সাধারণ ধাপ
বাংলাদেশ আর জাপানের মধ্যে SSW নিয়ে সহযোগিতা স্মারক (MoC) সই হয় ২৭ আগস্ট ২০১৯। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় পুরো ব্যবস্থা দেখে; সরকারি এজেন্সি BOESL আর জাপানের জন্য অনুমোদিত প্রায় ৯০–৯৫টি বেসরকারি এজেন্সি কর্মী পাঠায়। ২০২৫ সালের মে মাসে ৫ বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে দুই দেশ নতুন সমঝোতা স্মারক সই করে।
সাধারণত যে ধাপগুলো পার হতে হয়:
- জাপানি ভাষা শেখা (৬–১২ মাস, নিজের গতিতে) — BMET-এর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও কোর্স আছে।
- JFT-Basic বা JLPT N4 পাস করা।
- নিজের খাতের দক্ষতা পরীক্ষা পাস করা।
- অনুমোদিত এজেন্সি বা BOESL-এর মাধ্যমে জাপানি নিয়োগকর্তার সাথে চাকরি মেলানো ও চুক্তি।
- নিয়োগকর্তা জাপানে Certificate of Eligibility (COE) নেন।
- ঢাকায় জাপান দূতাবাসে ভিসার আবেদন।
- BMET-এ নিবন্ধন, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ আর বহির্গমন ছাড়পত্র (স্মার্ট কার্ড) — বিস্তারিত আমাদের BMET স্মার্ট কার্ড গাইডে।
- যাত্রা।
এটি সাধারণ ক্রম; আপনার এজেন্সি বা খাতভেদে ধাপ একটু আলাদা হতে পারে।
খরচ কত
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের (আগস্ট ২০২৩) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার SSW-এর জন্য প্রাক-নির্বাচনী প্রশিক্ষণ আর পরবর্তী ব্যবস্থাপনাসহ সর্বোচ্চ খরচ ৳১,৪৮,৫০০ নির্ধারণ করেছে। এই সীমা ২০২৬-এও বহাল আছে কিনা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি — এজেন্সির সাথে কথা বলার সময় লিখিত হিসাব চান।
বাস্তবে অনেকে এর চেয়ে অনেক বেশি দেন — IOM-এর একটি পর্যবেক্ষণে প্রকৃত নিয়োগ খরচ প্রায় ৫,০০০ মার্কিন ডলার পাওয়া গেছে। কোনো টাকা নগদে বা রসিদ ছাড়া দেবেন না, আর “নিশ্চিত ভিসা”-র প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করবেন না।
বেতন কেমন
- নিয়ম অনুযায়ী SSW কর্মীর বেতন একই কাজের জাপানি কর্মীর চেয়ে কম হতে পারবে না।
- জাপানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের জরিপে SSW কর্মীদের গড় মাসিক নির্ধারিত বেতন ছিল ¥২,৫০,৩০০ (কর ও বিমার আগে)।
- জাপানের ন্যূনতম মজুরির জাতীয় গড় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঘণ্টায় ¥১,১৭৭ (অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর); টোকিওতে ¥১,২৮০।
- খাত আর এলাকাভেদে বেতন আলাদা; বাসাভাড়া, কর আর বিমা কাটার পর হাতে কম আসে।
সামনে যা বদলাচ্ছে
- ২০২৭-এর এপ্রিল থেকে জাপান Technical Intern Training (TITP) বাদ দিয়ে নতুন “Employment for Skill Development” (育成就労) ব্যবস্থা চালু করছে। এটি পরে SSW-এর সাথে যুক্ত হবে।
- ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে জাপানে থাকার অনুমতি নবায়ন বা পরিবর্তনের ফি বেড়েছে।
প্রশ্নোত্তর
SSW ভিসায় কি পরিবার নেওয়া যায়?
SSW (i)-এ সাধারণত পরিবার নেওয়া যায় না। SSW (ii)-তে গেলে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান নেওয়া যায়।
JLPT N4 না JFT-Basic — কোনটা দেব?
SSW (i)-এর জন্য দুটোই চলে। JFT-Basic প্রায় প্রতি মাসে হয় আর ফল ৫ কর্মদিবসের মধ্যে আসে, তাই দ্রুত। JLPT বছরে দুবার (জুলাই ও ডিসেম্বর) হয়।
দালাল ছাড়া কি যাওয়া যায়?
হ্যাঁ। সরকারি এজেন্সি BOESL আর মন্ত্রণালয়-অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে যান। এজেন্সির লাইসেন্স OEP-এর RAIMS তালিকায় “Active” কিনা দেখে নিন।
কতদিন লাগে?
ভাষা শেখা থেকে যাত্রা পর্যন্ত সাধারণত ১–২ বছর লাগে — মূল সময় যায় ভাষা শিখতে আর নিয়োগকর্তা পেতে।
তথ্যসূত্র
- জাপান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় — SSW পরিচিতি
- Japan Foundation — JFT-Basic FAQ
- Prometric — SSW পরীক্ষার ফি
- nippon.com (জানুয়ারি ২০২৬) — নতুন খাত ও 育成就労
- ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস (২০১৯) — MoC সই
- ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস (২০২৩) — খরচের সীমা
- জাপান শ্রম মন্ত্রণালয় — বিদেশি কর্মী জরিপ (২০২৫)
- JILPT (অক্টোবর ২০২৬) — ন্যূনতম মজুরি
- ডেইলি স্টার (নভেম্বর ২০২৫) — দক্ষতা পরীক্ষা কেন্দ্র
নিয়ম আর খরচ বদলাতে পারে। যাওয়ার আগে BMET, BOESL আর ঢাকায় জাপান দূতাবাস থেকে নিশ্চিত হোন।
এই লেখার দেশগুলোর পূর্ণ গাইড — খরচ, ভিসা ও বেতন:
🇯🇵 জাপানকোন দেশে আপনার চাকরির সুযোগ সবচেয়ে বেশি?
শিক্ষা, অভিজ্ঞতা আর দক্ষতা দিন — ২ মিনিটে দেখুন কোন দেশ, কোন ভিসা, কত বেতন। সম্পূর্ণ ফ্রি।
ফ্রি Analysis করুন →